গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্টের অনুমোদন পেতে যে শর্তগুলো পূরন করতে হবে

আমাদের দেশে অনেককেই বলতে শুনা যায় যে গুগল অ্যাডসেন্স এর অনুমোদন পাওয়া অনেক কঠিন। অনেক নতুন ব্লগার তাদের ব্লগের জন্য অ্যাডসেন্স একাউন্টের অনুমোদন পান না। অনেকে আবার বলে বাংলাদেশ থেকে অ্যাডসেন্স পাওয়া যায় না বা পেতে হলে ব্লগের বয়স ৬ মাস হওয়া লাগে, এই রকম আরো অনেক কিছু। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, ওনারা অ্যাডসেন্স এর নিয়ম-কানুন ঠিকভাবে মেনে তারপর অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করেননি তাই একাউন্টের অনুমোদন পান নি।Google AdSense Approval

আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স এর সকল পলিসি ঠিকভাবে মেনে আবেদন করছেন, একমাত্র তাহলেই আপনার একাউন্ট অনুমোদন পাবে। আজকে এই পোষ্টে আমরা দেখবো গুগল অ্যাডসেন্স এর অনুমোদন পেতে হলে আপনাকে কি কি শর্ত পূরন করতে হবে।

চলুন তার আগে দেখে নেই কেনো গুগল অ্যাডসেন্স আপনার আবেদন বাতিল করতে পারে।

অপর্যাপ্ত বা নিন্মমানের কন্টেন্ট

আপনার ব্লগে যদি অপর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকে তাহলে অ্যাডসেন্স আপনার আবেদন বাতিল করবে এবং আপনার সাইট রিভিউ করে পুনরায় আবেদন করতে বলবে। আবার অনেকে দেখা যায় যে অনেক কন্টেন্ট দেয় কিন্তু কন্টেন্টগুলা নিন্মমানের যেগুলা রিডারের কোন কাজে লাগে না বা অন্য কোথাও থেকে কপি করা।

নিন্মমানের ডিজাইন আর নেভিগেশন

অ্যাডসেন্স এর অনুমোদন পাওয়ার জন্য সাইটের ডিজাইন আর নেভিগেশন অনেক গুরুত্বপূর্ন। আপনার সাইটের ডিজাইন আর নেভিগেশন অবশ্যই গুগল ওয়েবডিজাইন গাইডলাইন অনুযায়ী হতে হবে।

গুরুত্বপূর্ন পেজ সমূহ না থাকা

অনেকেই দেখা যায় যে তাদের ব্লগ/সাইটে দরকারী ও গুরুত্বপূর্ন পেজ সমূহ যেমন এবাউট, কন্টাক্ট, প্রাইভেসি পলিসি/ডিসক্লেইমার ইত্যাদি পেজগুলো না দিয়েই অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করেন। এতে করে তাদের আবেদন অনুমোদন পায় না।

যাই হোক, তো চলুন এবার আমারা দেখবো, গুগল অ্যাডসেন্স এর অনুমোদন পেতে হলে আমাদের কি কি শর্ত পূরন করতে হবে।

১. নিজস্ব টপ লেভেল ডোমেইন

অনেকেই দেখা যায় যে ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস বা উইভলিতে একটা ফ্রি ব্লগ করে তারপর সেই ব্লগ দিয়ে অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করে। এইসব ফ্রি ডোমেইন দিয়ে যদি আপনি অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করেন তাহলে ৯৯% ক্ষেত্রেই আপনার আবেদন বাতিল হবে যদি না আপনার সাইটে অনেক বেশি পরিমান আর রিডারদের জন্য অনেক মূল্যবান কন্টেন্ট না থাকে। সুতরাং আপনাকে অবশ্যই একটা ডোমেইন কিনতে হবে সাথে সাথে একটা হোস্টিং স্পেসও কিনতে হবে আপনার সাইট হোষ্ট করার জন্য।

২. ডোমেইনের বয়স

যেমনটা আগে বলেছিলাম, অনেকেই বলে যে ডোমেইনের বয়স ৬ মাস না হলে অ্যাডসেন্স এর জন্য অনুমোদন পাওয়া যায় না। কিন্তু আসলে এই কথার কোন ভিত্তি নেই। আপনি ইচ্ছে করলে ৭-১৫দিন বয়সী একটা ব্লগ/সাইটেও অ্যাডসেন্স পেতে পারেন। তার জন্য আপনাকে এই ৭-১৫ দিনের মধ্যে ব্লগে অনেকগুলা কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে আর এস.ই.ও. করে কিছু ট্রাফিক আনতে হবে।

তবে এত তাড়াহুড়ো না করে ৪৫-৬০ দিন অপেক্ষা করা ভালো। তারপর আপনি অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারেন।

৩. সাইটের ডিজাইন এবং নেভিগেশন

অ্যাডসেন্স এর অনুমোদন পাওয়ার জন্য সাইটের ডিজাইন এবং নেভিগেশন অত্যান্ত গুরুত্ব বহন করে। আপনার সাইতের ডিজাইন আর নেভিগেশন যদি ইউজার ফ্রেন্ডলী না হয় তাহলে কোনভাবেই আপনি অ্যাডসেন্স এর জন্য অনুমোদন পাবেন না। এইজন্য যারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে সাইট করেছেন তাদের উচিত একটা প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করা।

৪. সাইটের কন্টেন্ট

অ্যাডসেন্স এর অনুমোদন পাওয়ার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় যার দিকে আপনাকে অবশ্যই বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। আপনার সাইটের কন্টেন্ট অবশ্যই রিডারদের জন্য উপকারী আর দরকারী হতে হবে। কন্টেন্ট অবশ্যই রিরাইটেন বা কপি/পেষ্ট করা হতে পারবে না। সাইটে কমপক্ষে ২০-৩০টা কন্টেন্ট থাকতে হবে যেগুলা কমপক্ষে ৬০০-৭০০ ওয়ার্ডের হবে। এর মধ্যে ৫-৭টা কন্টেন্ট ১৫০০ এর বেশী ওয়ার্ডের হলে আরো ভালো হয়।

সাইটে কোন ধরনের পর্নোগ্রাফিক, ড্রাগস, অস্ত্র/হাতিয়ার, হ্যাকিং অর্থাৎ অবৈধ কোন বিষয় নিয়ে কোন কন্টেন্ট, ছবি বা ভিডিও থাকতে পারবে না।

৫. গুরুত্বপূর্ন পেজসমূহ থাকতে হবে

একটা ব্লগ/সাইটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেজ রয়েছে যেগুলা আপনাকে তৈরী করে পাবলিশ করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ন পেজগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এবাউট পেজ, কন্টাক্ট পেজ, প্রাইভেসি পলিসি পেজ/ডিসক্লেইমার পেজ ইত্যাদি।

এবাউট পেইজে আপনার ব্লগ/সাইট এবং আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা থাকবে যাতে করে কেউ এবাউট পেইজে গেলেই বুঝতে পারে এই ব্লগ/সাইটে সে কি পাবে বা এইখানে কি নিয়ে লেখালেখি হয়।

কন্টাক্ট পেইজে আপনার সম্পূর্ণ কন্টাক্ট এর তথ্য থাকবে যাতে করে যে কেউ চাইলেই আপনার সাথে যেকোন দরকারে যোগাযোগ করতে পারে।

প্রাইভেসি পলিসি পেইজে আপনার রিডারদের জন্য তাদের প্রাইভেসি সম্পর্কিত কিছু তথ্য থাকবে যেমন সাইটের কুকির তথ্য, আপনি যদি রিডারদের কাছ থেকে কোন তথ্য সংগ্রহ করেন (যেমন নাম, ইমেইল, ঠিকানা ইত্যাদি)তাহলে সেগুলা কেন করেন, কিভাবে কাজে লাগান এবং কিভাবে সংরক্ষণ করেন ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা থাকবে এই প্রাইভেসি পলিসি পেজে।

৬. নাম, ইমেল এবং বয়স যাচাই করা

অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার সময় অবশ্যই আপনার আসল নাম আর বয়স দিবেন। এবং যে নামে আবেদন করবেন সেই নাম এবং ইমেইল আইডি যাতে আপনার সাইট/ব্লগের এবাউট এবং কন্টাক্ট পেইজে থাকে।

৭. সার্চ ইঞ্জিন থেকে কিছু ট্রাফিক পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন

অনেকেই দেখা যায় যে ব্লগে অনেক কন্টেন্ট দেয় কিন্তু কোন এস.ই.ও. এর কাজ করে না তাই সার্চ ট্রাফিকও পায় না। আসলে সার্চ ট্রাফিক বড় কোন বিষয় না কিন্তু তারপরেও প্রতিদিন কিছু পরিমান সার্চ ট্রাফিক পাওয়া শুরু হলে তারপর অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করা ভালো।

৮. অন্যান্য বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলুন

অনেকেই দেখা যায় যে তাদের ব্লগে প্রথমে অন্য কোন নেটওয়ার্ক এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকেন। তাই অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার আগে আপনাকে অবশ্যই অন্যান্য সকল বিজ্ঞাপন আপনার সাইট থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

শেষ কথা

আসা করি উপরোক্ত শর্তগুলো ঠিকভাবে মেনে যদি আপনি অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করেন তাহলে আপনার আবেদন অবশ্যই গ্রহণ করা হবে এবং আপনি অ্যাডসেন্স একাউন্টের অনুমোদন পাবেন। এই সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে করে ফেলুন, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

আর লেখাটি ভালো লাগলে আপনার প্রোফাইলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Comments

%d bloggers like this: